শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ২:৫৩ am

বিয়ের পোশাকে ৮৭ বছর অপেক্ষা

অনলাইন ডেস্ক/চোখে-মুখে প্রায় জীবন্ত মানুষের অভিব্যক্তি। পরনে বিয়ের পোশাক। গরনে আতটাই স্বাভাবিক যে, কোনোভাবেই পুতুল বলে মনে হয় না। মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়া শহরে আক বিয়ের পোশাকের দোকানে ৭৫ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ম্যানেকুইনটিকে ঘিরে এমন এক বিস্ময়কর গল্প প্রচলিত রয়েছে। যা শুনলে সত্যিই আঁতকে উঠতে হয়।

৮৭ বছরের দীর্ঘ সময়কালে লা পাসকুয়ালিতা নামের এই ম্যানেকুইনটিকে নিয়ে সরব হয়েছে অসংখ্য সংবাদমাধ্যম। তাদের মতে, এটি শুধু নিছক ‘পুতুল’ নয়, একটি সংরক্ষিত মৃতদেহ।

১৯৩০ সালের ২৫ মার্চ চিহুয়াহুয়ার ওই দোকানের শোকেসে এই ম্যানেকুইনটিকে দাঁড় করানো হয়। স্থাপনের কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয় লোকজন টের পান, এই পুতুলটির সঙ্গে ওই দোকানের মালকিন পাসকুয়ালা এসপারাজার চেহারার আশ্চর্য সাদৃশ্য রয়েছে।

বিশ্বের আজব খবরের খনি ‘রিপলিজ’-এর মতে, শহরবাসীরা বিশ্বাস করতে শুরু করে, এটি পাসকুয়ালার প্রয়াত কন্যার দেহ। সেটিকে সংরক্ষণ করেই এই ম্যানেকুইনটি বানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, পাসকুয়ালার মেয়ে তার কয়েক দিন আগেই ব্ল্যাক উইডো মাকড়সার কামড়ে মারা যায়। মেয়েটি যেদিন মারা যায়, সেই দিনটি ছিল তার বিয়ের দিন। পাসকুয়ালা অবশ্য এইসব কথাবার্তাকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু এই অসম্ভব রকমের ‘জীবন্ত’ পুতুলটিকে ঘিরে আবর্তিত হতে থাকে নানা আজগুবি কাহিনি।

পুতুলটিকে ঘিরে আজও রহস্যের খামতি নেই। ম্যানেকুইনটির পোশাক সপ্তাহে দু’দিন বদলাতে হয়। যিনি এই কাজটি করেন, তাঁর নাম সনিয়া বার্সিয়াগা। দোকান-কর্মী সেই মহিলা ‘রিপলিজ’-কে সম্প্রতি জানিয়েছেন, যতবার তিনি এই পুতুলটির কাছে যান, তাঁর অসম্ভব উদ্বেগ শুরু হয়। তিনি ঘামতে শুরু করেন। পুতুলটির হাত-পা একেবারেই মানুষের মতো। এমনকী, তার পায়ে ভেরিকোজ ভেন রয়েছে। সনিয়ার মতে, এটি কিছুতেই একটা মামুলি ম্যানিকুইন নয়। এটি আসল মানুষ।

মেক্সিকোর প্রাচীন সভ্যতায় মমি তৈরি খুব স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। কিন্তু বিংশ শতকে তেমন কিছু নির্মাণ সম্ভব কি না, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। সর্বোপরি, মেক্সিকোর আজকের আবহাওয়া এই ধরনের সংরক্ষণের পক্ষে একেবারেই সহায়ক নয়। কিন্তু এই সব যুক্তিতে মন মানে না রহস্য-সন্ধানীদের। নির্বিকার চিত্তে ৭৫ বছর কাটিয়ে দেওয়া এই পুতুল আসলে বিয়ের রাতে নিহত সেই হতভাগিনী ময়েটি কিনা, তা জানা যায় না।

আর্কাইভ