শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ২:৫১ am

ছেলে হোটেল মালিক,বাবার ঠাঁই রাস্তায়!স্বামী সন্তান থাকলেও স্কুল শিক্ষিকা ভিখারি !!!

অনলাইন ডেস্ক/‘মানুষের বৃদ্ধ হওয়াটাই যেন সবচেয়ে বড় অপরাধ? আমার ঘর-সংসার, ছেলেমেয়ে সব থাকার পরও রাস্তায় পড়ে থাকতে হয়। সারাদিন জোটে না কোনো খাবার। নেই কোনো আশ্রয়। জীবনের এই শেষ সময়ে স্ত্রী, ছেলেমেয়েরা কেউ তো ঘরে রাখতে চায় না।’মানুষ সামাজিক জীব। ব্যক্তির যেমন চাহিদা আছে, তেমনি সমাজেরও চাহিদা আছে। সমাজ মানুষ থেকে সব সময় সামাজিক আচরণ প্রত্যাশা করে। সমাজপ্রত্যাশিত আচরণ সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য একান্ত কাম্য। বিশ্বসভ্যতা থেমে নেই। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, শিল্প ও প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বসভ্যতা। আধুনিক সভ্যতার দৌড়ে হারিয়ে যাচ্ছে প্রচলিত নীতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ। ক্রমশই বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। নষ্ট হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলা এবং ছিন্ন হচ্ছে সামাজিক সম্পর্ক। অস্থির হয়ে উঠছে সমগ্র সমাজব্যবস্থা। দেশে দেশে চলছে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চরম দুর্ভিক্ষ।

একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। উত্তর কেরালার মালাপ্পুরাম জেলার একটি স্কুলে দীর্ঘদিন শিক্ষাদান করেছেন তিনি।খাবার খাওয়ার সময় বৃদ্ধাটির সঙ্গে আলাপ চালানোর চেষ্টা করেন বিদ্যা। খেয়াল করলেন, বৃদ্ধার বাচনভঙ্গি বেশ মার্জিত। কথাবার্তায় শিক্ষার ছাপ। ফলে অতীত জীবন সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠলেন।এক বোন ও কয়েকজন আত্মীয়ের সন্ধান বের করতে পারলেও, অনেক চেষ্টার পরও ছেলে বা স্বামীর কোনো খোঁজ পায়নি। বিস্তারিত সংবাদ নিচের সংবাদের পরে পড়ৃন।

শতবর্ষী এই বৃদ্ধের চার ছেলে ও তিন মেয়ে। সবাই প্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে একটি হোটেলের মালিক। তারপরও শতবর্ষী ওই বৃদ্ধ বাবার আশ্রয় এখন রাস্তায়।

‘মানুষের বৃদ্ধ হওয়াটাই যেন সবচেয়ে বড় অপরাধ? আমার ঘর-সংসার, ছেলেমেয়ে সব থাকার পরও আজ আমি রাস্তায় পড়ে রয়েছি। সারাদিন জোটেনি কোনো খাবার। নেই কোনো আশ্রয়। জীবনের এই শেষ সময়ে স্ত্রী, ছেলেমেয়েরা কেউ তো ঘরে রাখতে চায় না।’

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) কাতর কণ্ঠে এসব কথাগুলো বলছিলেন নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের রাস্তায় পড়ে থাকা শতবর্ষী মনতাজ আলী।

জানা গেছে, তার এ বৃদ্ধ বয়সের অচলাবস্থা দেখে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা কেউ যেন তার আর দায়িত্ব নিতে চায় না। তাই তারা রাস্তায় ফেলে চলে গেছে। অথচ ওই বৃদ্ধের বড় ছেলে আবদুল আজিজ মরুর নিংগইন পেট্রল পাম্পের পার্শ্বে সকাল-সন্ধ্যা চলনবিল হোটেলে খাবারের অভাব নেই।

প্রতিবেশী ছবেজান বেওয়া ও হাসিনা বেগম জানান, সোমবার বিকালে পৌর শহরের চাঁদপুর বাংলালিংক টাওয়ারের পাশে শতবর্ষী ওই বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখে তারা মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলে ভ্যানযোগে বড় ছেলে আবদুল আজিজ মরুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কেউই তাকে আশ্রয় দিতে চায় না। মরুর ছেলে শুভ হোসেন তাদেরকে মারধর করে বের করে দিয়েছে।

পরে মেয়ে মোমেনা বেগম ও মেজ ছেলে মস্তাকের বাড়িতে নিয়ে গেলে তারাও কেউ ঘর থেকে বের হয়নি। পরে রাত ৮টায় ওই বৃদ্ধকে সিংড়া থানার গেটে ফেলে রেখে চম্পট দেয় ভাড়া করা ভ্যানচালক।

এদিকে খবর পেয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নাটোর জেলা শাখার নির্বাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম ও সিংড়া থানার এসআই শাহেদ আলী অসুস্থ শতবর্ষী মনতাজ আলীকে উদ্ধার করে সিংড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।

থানা থেকে রাতেই ওই বৃদ্ধের ছেলেদেরকে খবর দেয়া হলেও মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিংড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো ছেলের দেখা পাওয়া যায়নি।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডের ভর্তিকৃত কমেদ আলীসহ অন্য রোগীরা জানান, সকাল থেকেই দেখছি ওই অসুস্থ বৃদ্ধের কেউ আসেনি।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টার্ফ নার্স মনোয়ারা বেগম জানান, বৃদ্ধের আত্মীয়স্বজনের এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ নেই। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সকালে হাসপাতাল থেকে একটি রুটি, কলা ও ডিম দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বৃদ্ধের বড় ছেলে আবদুল আজিজ মরু বলেন, তার বাবা সৎমা আলুফা বেগম ও ভাই আরিফুল ইসলামের কাছে থাকেন। তিনি এসবের দায়িত্ব নিতে পারবেন না। ছেলে তো আরও রয়েছে, সবাইকেই ডাকেন।

সিংড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, একজন শতবর্ষী বৃদ্ধকে রাতে রাস্তায় ফেলে চলে যাওয়া অমানবিক বিষয়। ওই বৃদ্ধের চার ছেলেকে থানায় দেখা করার জন্য খবর পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

######

স্কুল শিক্ষিকা,কেন ভিখারি?

স্বাধীনচেতা স্বভাবের বিদ্যা ভারতের একজন সরকারি কর্মকর্তা। দক্ষিণ ভারতের কেরালার রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমে তার বসবাস। এক সকালে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে শহরের রেল স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন।

স্টেশনের বাইরে বন্ধুর জন্য অপেক্ষার সময় তার চোখ গেলো রাস্তার পাশে অবস্থানরত এক বৃদ্ধার দিকে। পরনের পোশাকটি জরাজীর্ণ। হাতে পলিথিন ব্যাগ, যাতে রয়েছে কয়েকটি খালি প্লাস্টিকের বোতল ও পুরনো একজোড়া কাপড়। রাস্তার পাশের একটি গাছ থেকে ফল ছিঁড়ে খাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।

বৃদ্ধাকে দেখে শহরের আর দশটা ভিখারির মতোই লেগেছিল বিদ্যার কাছে। বিদ্যার মনে সহমর্মিতা জাগে। তিনি বৃদ্ধাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার কি ক্ষুধা লেগেছে’?

‘না’, সঙ্গে সঙ্গে জবাব বেরিয়ে আসে বৃদ্ধার মুখ থেকে। স্বীকার করতে না চাইলে কি হবে, তার মলিন মুখমণ্ডল ও ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য দেখলেই বোঝা যায় তিনি কতোটা ক্ষুধার্ত। বিদ্যা কাছাকাছি একটা খাবারের দোকান থেকে কিছু খাবার কিনে আনেন বৃদ্ধার জন্য।

খাবার খাওয়ার সময় বৃদ্ধাটির সঙ্গে আলাপ চালানোর চেষ্টা করেন বিদ্যা। খেয়াল করলেন, বৃদ্ধার বাচনভঙ্গি বেশ মার্জিত। কথাবার্তায় শিক্ষার ছাপ। ফলে অতীত জীবন সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠলেন।

জানা গেলো, ভিখারির মতো ঘুরে বেড়ানো বৃদ্ধাটি একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। উত্তর কেরালার মালাপ্পুরাম জেলার একটি স্কুলে দীর্ঘদিন শিক্ষাদান করেছেন তিনি। বৃদ্ধার কাহিনী কতটুকু সত্য তা নিয়ে সংশয় থাকায় মোবাইল ফোন দিয়ে তার কিছু ছবি তুলে রাখেন বিদ্যা।

বৃদ্ধা যদি আসলেই স্কুল শিক্ষিকা হয়ে থাকেন, তবে তার কোনো না কোনো ছাত্র-ছাত্রী তাকে অবশ্যই চিনতে পারবেন। এই ভেবে বৃদ্ধার ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করেন। ফলাফল পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। বৃদ্ধার কয়েকজন পুরনো ছাত্র-ছাত্রী চিনে ফেলেন ছবিটা, এ তো আমাদের ছোটবেলার ভালসা ম্যাডাম!

বিদ্যার সহযোগে আবার খুঁজে বের করেন তাকে। তারা সবাই গৃহহীন ভালসা ম্যাডামের জন্য শেল্টারের ব্যবস্থা করতে আগ্রহী। শহরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে তার থাকার ব্যবস্থা হয়ে যায়।

ভালসার আত্মীয়-স্বজনকে খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে পুলিশ স্টেশনে একটি জেনারেল ডায়রি করা হয়। সেখান থেকে জানা যায়, ভালসার পরিবার তাকে পরিত্যাগ করেছে। মায়ের ভরণপোষণের দ্বায়িত্ব এড়াতে ছেলে তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। পুলিশ ভালসার এক বোন ও কয়েকজন আত্মীয়ের সন্ধান বের করতে পারলেও, অনেক চেষ্টার পরও ছেলে বা স্বামীর কোনো খোঁজ পায়নি। 

ভারতের সরকারি তথ্যমতে, কেরালায় প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশই প্রবীণ। একইসঙ্গে, প্রবীণ নাগরিকদের পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনাও এ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটতে দেখা যায়। 

রাজ্যের একজন সাব-কালেক্টর দিব্য এস ইয়ের বলেন, এখানকার বেশির ভাগ কর্মজীবী মানুষের সন্তানরা ভবিষ্যতে নিজেদের অভিভাবকের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করতে চায় না। ফল স্বরূপ দেখা পেতে হয় ভালসার মতো হতভাগিনী মায়ের।

আর্কাইভ