মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ৬:০০ am

চুলের বাজার, মাসে কোটি টাকার কেনাবেচা!

অনলাইন ডেস্ক/বাংলাদেশে একমাত্র চুল বেচাকেনার হাট বসছে রাজশাহী তানোর উপজেলার চৌবাড়িয়ায়। শুধু মঙ্গলবার বাদে সপ্তাহে ছয় দিন এখানে চুলের বেচাকেনা হয়।

চুলের হাটকে নিয়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ১৫টি প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র। পুরুষদের পাশাপাশি সেখানে কাজ করছেন নারীরাও। যেখানে হাজারো পরিবারের সদস্যরা চুলের কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

নওগাঁর নিয়ামতপুর ও মান্দা উপজেলায় প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র থেকে চুল আসে হাটে। চুল কিনতে দেশের উত্তর অঞ্চল রংপুর ও দিনাজপুর এলাকা থেকেও পাইকাররা আসেন। হাটে প্রতিদিন অন্তত ২০ কেজি করে চুল বিক্রি হয়। মাসে এখানে চুল নিয়ে ১ কোটি টাকার কারবার হয়। এদিকে চৌবাড়িয়া বাজারে ৪৬জন চুল ব্যবসায়ীকে নিয়ে গড়ে উঠেছে চুল ব্যবসায়ী সমিতি।

চুল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নারীদের উচ্ছিষ্ট চুল ফেরিওয়ালারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে সংগ্রহ করেন। এরপর বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা চুলগুলো হাটে বিক্রি করেন। সেখান থেকে চুল ব্যবসায়ীরা চুল কিনে নিয়ে আসেন নিজ কেন্দ্রে। তারপর কয়েকটি ধাপে চুল প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয়।

চুলের কাজে নিয়োজিত মাদারীপুর গ্রামের কাজলী বেগম, চকরহমত গ্রামের নিলুফা ইয়াসমিন, রুমা খাতুন, জাহানারা বেগম জানান, তারা জটবাঁধা ও নোংরা চুল আলাদা করেন। এতে নাকে-মুখে ধুলাবালি ঢুকে শরীরে অসুখ হয়। পরিশ্রমের তুলনায় টাকা কম পান। পেটের দায়ে তারা এ কাজ করছেন।

তানোর উপজেলার চন্দনকোঠা গ্রামের চুল ব্যবসায়ী মজিদুল ইসলাম ও মাদারীপুর গ্রামের চুল ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন জানান, তারা চুল কেনেন চার হাজার তিনশ' টাকা কেজি দরে। প্রক্রিয়াজাতের পর ১ কেজি চুলের ওজন কমে ৬০০ গ্রাম হয়। সেই চুল প্রতি কেজি সাড়ে দশ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তবে ১২ ইঞ্চির বেশি লম্বা হলে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি বিক্রি হয়।

চৌবাড়িয়া বাজার চুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন জানান, চুল ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারী, পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা এই পেশার সাথে জড়িত। কিন্তু শ্রমের তুলনায় তারা পারিশ্রমিক খুব কম পান। যদি সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা করা যেত তাহলে এ ব্যবসায় আরো সুফল বয়ে আনতো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. শওকাত আলী বলেন, তানোরের চুল ব্যবসা একটি সম্ভাবনাময় খাত। এতে যুক্ত হয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এখনও চুল ব্যবসা আলাদা শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠেনি। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

আর্কাইভ