মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ৬:১৩ am

খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতারা বিদেশি সিম ব্যবহার করেন!

অনলাইন ডেস্ক/ বেগম জিয়া লন্ডন থেকে ঢাকা এলে, বিএনপি নেতা এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুব উদ্দিন খোকনের টিলিফোন সংলাপও ফাঁস হয়ে গেছে।

ইউটিউবে ভাইরাল হওয়া কথোপকথনে দেখা যায়, লোক আনার জন্য অ্যাডভোকেট খোকনকে কোনো প্রবাসী টাকা দেওয়ার কথা বলছেন। বিএনপি নেতাদের ধারণা তাঁদের শীর্ষ নেতাদের কথোপকথন আঁড়ি পাতা হয়।

গোপনীয় সব সিদ্ধান্ত সরকার আগে থেকেই জেনে ফেলে। আর এজন্যই বিএনপির শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশি নেটওয়ার্কের ফোন রোমিং করিয়ে আলাপ আলোচনা সারছেন। এটা খুবই ব্যয়বহুল হলেও, তারা এটাই করছেন। বেগম জিয়া লন্ডন থেকে ফিরেছেন লাইকা এবং ভোডাফোনের দুটি রোমিং সিম নিয়ে। তার গ্রামীন ফোনের নিয়মিত ফোনটি প্রায়ই বন্ধ থাকে। লাইকা নেটওয়ার্কেই তিনি জরুরি কথাবার্তা সারেন। ওই ফোনের বিল পরিশোধিত হয় লন্ডন থেকেই।

বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত স্টাফ শিমুল বিশ্বাসের কাছেও একটি যুক্তরাজ্যের রোমিং সিম রয়েছে। তাবে শিমুল বিশ্বাস রবির দেশীয় নেটওয়ার্কেও কথা বলেন। বিএনপির আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা আবদুল আওয়াল মিন্টু কথা বলেন, থাইল্যান্ডের একটি সিম দিয়ে। ওই ফোনে টাকাও ভরানো হয় ব্যাংকক থেকে। মিন্টুর দেশীয় নেটওয়ার্কের সিমগুলো বন্ধ দীর্ঘদিন। ঢাকায় তিনি তাঁর ড্রাইভার এবং ব্যক্তিগত স্টাফদের ফোন ব্যবহার করেই দৈনন্দিন কাজ সারেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্যও রয়েছে সিঙ্গাপুরের একটি রোমিং সিম। মাঝে মধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কথোপকথনের জন্য তিনি ওই সিম ব্যবহার করেন। তবে গণমাধ্যম কর্মী এবং সাধারণের জন্য তাঁর পরিচিত ফোন নাম্বারটি সব সময়ই সচল থাকে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও লন্ডনের একটি সিম ব্যবহার করেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর রয়েছে দেশীয় নেটওয়ার্কের দুটি ফোন। বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও তাঁর দেশীয় ফোনের বাইরে একটি লন্ডনের সিম ব্যবহার করেন।

তবে, বিএনপির চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে যারা বিদেশী নেটওয়ার্কের সিম ব্যবহার করছেন তারা সবাই করছেন বেনামী ফোন। আর এমন সব দেশের সিম ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলোতে অবাধে সিম কেনা যায়, পয়সা দিলেই রোমিং করা যায়। তবে এসব ফোনের রোমিং কলচার্জ অনেক ব্যয়বহুল।

বিএনপির দু’জন শীর্ষনেতা বিদেশী নেটওয়ার্কের সিম ব্যবহারের কথা স্বীকারও করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সব নেতাদেরই কথাবার্তা টেপ করা হয়্ এ প্রসঙ্গে, তিনি তারেক জিয়া-শমসের মোবিন চৌধুরী, তারেক-মাহামুদুর রহমানের কথোপকথন স্যোশাল মিডিয়াতে প্রচারের কথা বলেন।

বিদেশি সিম বাংলাদেশে ব্যবহারে আইনগতভাবে বৈধ কিনা জানতে চাইলে বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এতে আইনগত কোনো সমস্যা নেই।’ তিনি অবশ্য স্বীকারও করেন, ‘এসব ফোনের ব্যবহারের ব্যাপারে সরকারের আইন ও নীতিমালার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

বিএনপির নেতাদের টেলিফোন কথপোকথনে আঁড়ি পাতা হয়- এমন অভিযোগে বিএনপির পুরোনো। তাদের বেশ কিছু কথাবার্তা ইউটিউবেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা এবং নাগরিক ঐক্যের মাহামুদুর রহমান মান্নার ভাইবারের কথোপকথনও ইউটিউবে ভাইরাল হয়। 

আর্কাইভ