মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ৬:১৬ am

দেশের সংস্কৃতির সাথে মেলে না।বুঝে না সে বুঝে না---!!!

অনলাইন ডেস্ক।। ভারতীয় সিরিয়ালে ভারতের সংস্কৃতি প্রচার হবে এটাই স্বাভাবিক তবে যা প্রদর্শিত হয় তার কিছুই বাংলাদেশের মানুষের সংস্কৃতির সাথে মেলে না। বুঝেনা সে বুঝেনা, বধু বরণ, ইচ্ছা নদী, ইষ্টি কুটুম, তোমাই আমাই মিলে, ঠিক যেন লাভ ষ্টোরী, রোমান্টিক গল্প গুলো আর এ থেকে শিখছে ভবিষ্যতের প্রেমের কাহিনী। রাস্তা পথে চলতে গেলে দেখা যায় স্কুল-কলেজগামী মেয়েরা রাস্তায় চলাফেরা করলে ছেলেরা বিকৃতভাবে বলে, বুঝেনা সে বুঝেনা।
হিন্দি গান মোবাইলের রিং টোন হতে পারবে না’,  বাংলাদেশের হাইকোর্ট এমন রায় দিয়েছে
কেন ? হিন্দি গান কি দোষ করলো ?বাংলাদেশীদের বাসায় যখন ভারতীয় সিনেমা হলসেটা নিয়েও একটু চিন্তা-ভাবনার বিষয়ও ছিল বলে অভিজ্ঞ মহল জানান।এই বুঝটা একটা সময় নেপাল কিংবা ভুটানের হয়েছে। তাই পরজীবি না হয়ে তারা আপন সংস্কৃতিকে ক্রমশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় সংস্কৃতি- সিনেমা, টিভি সিরিয়াল, নায়ক নায়িকার স্টাইল-ফ্যাশন সবই তো আমাদের মধ্যবিত্ত মানসিকতায় অনেককাল ধরে লেগে আছে। বাংলাদেশি হলেও ভারতীয় অনেক কিছুর ওপরই আমাদের নির্ভরতা। সেক্ষেত্রে ভারতীয় গরু, শাড়ি, কলম, বই, টেলিভিশন, পোশাক, পেঁয়াজ-আরও কত কী? কোথায় ভারতীয় বিষয়টি নেই?পাখি আর কিরনমালার অবদানও তো কম নয় ?  দুখানা ড্রেসের জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ডজনখানের আত্মহত্যা লাভকরেছে বাংলাদেশ !

বুঝতে হবে, আমাদের সঙ্গে ভারতীয়দের পার্থক্য কী? ১৯৪৭, ১৯৬৫, ১৯৭১ এই সালগুলোর গুরুত্ব কী? অনেকে গুরুত্ব জেনেও বেমালুম না জানার ভান করে। আসলে ভারতীয় সংস্কৃতির কোনো দোষ নেই। দোষটা আমাদের নিজেদের। আমরা পরজীবী হয়ে পড়ছি। চাল-ডাল বলেন আর সাহিত্য-সংস্কৃতি বলেন, সর্বক্ষেত্রে পরাশ্রায়ী হয়ে বেঁচে থাকাটাই আমাদের ইচ্ছা।

শোনা যায়, ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় ভারতীয় চলচ্চিত্র পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। বিষয়টি শুধুমাত্রই রাজনৈতিক। কিন্তু সেই রাজনৈতিক আইনটি পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধুর সরকার কিন্তু বিলুপ্ত করেননি। ফলে ভারতীয় চলচ্চিত্র বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করল না। সে সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রের একটা নিজস্ব ধারা ঢং শুরু হয়েছিল। একটা সময়ে তা আর বেঁধে রাখা গেল না। পরিচালকরা লাইন দিয়ে শুরু করল ভারতীয় সিনেমার রিমেক। আর সেসব সিনেমায় ব্যবহৃত যাবতীয় কীর্তিকলাপ ব্যবহৃত হত আমাদের সামাজিক জীবনে।বাংলাদেশ এখন হয়ে উঠেছে ভারতীয় সংস্কৃতি চর্চার উর্বর ক্ষেত্র। ভারতীয় শিল্পীরা এখন বাংলাদেশকে রমরমা বাণিজ্য ক্ষেত্র হিসেবেও বেছে নিয়েছে। দু`দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি থাকলেও এসব চলছে চুক্তির তোয়াক্কা না করেই। এ দেশের বিদ্যমান আইন না মেনে তারা চালাচ্ছেন সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। এতে আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংসের পাশাপাশি ভারতে চলে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন তারা। ভারতের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিষয়টি দেশের চিন্তাশীল মানুষদের ভাবিয়ে তুলেছে। কিন্তু কে বেঁধে রাখবে?

একটা কথা মনে রাখা জরুরি। বলিউড হলো সফট পাওয়ার। এই পাওয়ার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো কামানের গোলাবর্ষণ করে না ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের রুমে যে বাক্সটি রয়েছে তার ভিতর দিয়ে সংস্কৃতির গুলীবর্ষণ করে। আর সে গুলি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তছনছ করে দেয়। অভিভাবকরাও আজকাল শিশু-কিশোরদের হিন্দী কথামালায় উদ্বিগ্ন হন না। বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে এভাবে তছনছ করার সুযোগ এদেশের সরকার, সংস্কৃতিকর্মী ও মিডিয়া আরও কতদিন দেবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আশির দশকে ভিডিও ক্যাসেটে আসা শুরু করে ভারতীয় সিনেমা। নব্বইয়ের দশকে আসে সিরিয়াল। চলমান দশকে তো মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটের যুগে আটকে আছে সব বয়সী মানুষ। ভারতীয় বাজার অনেক বড়। বাংলাদেশের তুলনায় বহুগুন অর্থ তারা ব্যায় করতে পারে যে কোন খাতে। সেখানে বাংলাদেশের এই স্বল্প বাজেটে টিকে থাকা খুবই কষ্টকর।আমাদের রুচিবোধ দিন দিন নিম্ন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। এখন আমাদের দেশের মেয়েদের অনেকটা সময় কাটে ভারতীয় বস্তাপচা সিরিয়াল দেখে। ভারতীয় টিভি চ্যানেলের মধ্যে স্টার প্লাস, স্টার জলসা, জি বাংলা, মহুয়া বাংলা, জিটিভি, লাইফ ওকে, স্টার ওয়ান, সনি, জি স্মাইল, ইটিভি বাংলায় প্রচারিত সিরিয়ালের অধিপত্যে বাংলা স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। পরিবারের মা, বোন, বৌ, চাচিরা এখন টেলিভিশন বলতে শুধু সিরিয়ালই বোঝেন। সারা দিন রিমোট হাতে এধরনের ভারতীয় হিন্দি, বাংলা সিরিয়ালে বুঁদ হয়ে থাকেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব চ্যানেলে চলতে থাকে বিভিন্ন নামের ধারাবাহিক টিভি সিরিয়াল।সিরিয়ালে যে সব দৃশ্য সচরাচর দেখতে পাওয়া তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-অসম প্রেম, স্বামী-স্ত্রীর পরকীয়া,পারিবারিক ভাঙ্গন, বহু বিবাহ, বউ- শ্বাশুড়ীর ঝগড়া, সম্পত্তির কারণে ভাই-ভাই ঝগড়া, স্ত্রীর কূটনৈতিক চাল, ভুল বোঝাবুঝি, হিংসা, সন্দেহ, অশ্লীলতা, আত্মীয়দের ছোট করা, অন্যকে বিপদে ফেলা। ভারতীয় সিরিয়ালে অহরহই যে বিষয়টি দেখাচ্ছে তা হলো পরকীয়া। প্রতিটি সিরিয়ালেই পরকীয়া হলো ঘটনার একটি মূল উপাদান। সিরিয়ালের আরেকটি বাজে প্রভাব হলো এতে দেখানো ননদ-বৌ, কিংবা বৌ- শ্বাশুড়ীর বিরোধ। বৌ-শ্বাশুড়ীর বিরোধ আজকাল মহামারী আকার ধারণ করেছে এদেশের নারীদের মন-মগজে ভারতীয় সিরিয়ালের কুপ্রভাবের কারণে।ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশনের (এফটিপিও) সভাপতি ও বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, "ইদানিংকালে দেশে শতকরা ৮০ শতাংশ বিবাহ বিচ্ছেদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ কারণ হলো ভারতীয় সিরিয়াল। ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোয় প্রচারিত অপসংস্কৃতিতে ভরা নাটক-সিরিয়ালে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে এমনটি ঘটছে। 

 

আর্কাইভ