মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ৬:১২ am

সারা জীবনের সঙ্গী মাত্র ২০০ টাকায় !

অনলাইন ডেস্ক/প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছেন মানুষ। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অভিনব কায়দায় চলছে এ প্রতারণা। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নগরীর গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, সদরঘাট, কাপ্তান বাজার, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে মোবাইলের অতিরিক্ত মেমোরি কম দামে বিক্রি করছে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা। ভ্রাম্যমাণ পথ বিক্রেতারা ১৬ জিবি (গিগাবাইট) মেমোরির দাম নিচ্ছে ২০০ টাকা, ৩২ জিবি ৩০০ টাকা। সাধারণ মানুষ মেমোরির ভালো মন্দ না জেনেই কম দামে কিনে নিচ্ছেন। কেনার পরই পড়ছেন বিপাকে। এ মেমোরি ব্যবহারের কারণে মোবাইল হ্যাঙ্গ, ফাইল চলে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একে অপরের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছে লোক ঠকানোর এ ব্যবসা।‘মেলা, মেলা। হ্যাঁ ভাই, সীমিত সময়ের জন্য মেলা। আমরা দিচ্ছি ১৬ জিবি মেমোরি ২০০ টাকায়, ৩২ জিবি মেমোরি ৩০০ টাকায়। এ সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য।’’ রাজধানীতে এভাবেই ‘কপি মেমোরি’ বিক্রয় করে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করছে একটি চক্র। রাজধানীতে কম দামে মোবাইল মেমোরি বিক্রির নামে গ্রাহক ঠকাচ্ছে প্রতারক চক্র। কম দামে মেমোরি কিনে মোবাইল হ্যাঙ্গসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ক্রেতারা।

তেজগাঁওয়ে একটি গার্মেন্টস এ চাকরি করেন নীলা আক্তার। তিনিও এ চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। নীলা বলেন, ‘‘যখন মেমোরি কিনেছিলাম, তখন লোকটা বলেছিলো- আপু মাত্র ২০০ টাকায় মেমোরিটা নেন। ধরে নেন এইটা আপনার সারা জীবনের সঙ্গী। মোবাইল একটার পর একটা নষ্ট হবে; কিন্তু মেমোরি আপনার কাছে সারা জীবন থাকবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘প্রতারক লোকটার সব কথাই মিথ্যা। মেমোরিটা ২০০ টাকায় কিনে ১২ হাজার টাকার মোবাইলে ঢুকিয়েছিলাম। দুদিন পর দেখি- মোবাইলে ভাইরাস পাকড়াও করেছে। এরপর মোবাইল থেকে মেমোরিটা খুলে রাখি, সপ্তাহখানেক পর দেখি মেমোরি আর একটিভ হচ্ছে না। মোবাইল-মেমোরি মেরামতের দোকানে নিয়ে গেলেও ওটা আর ঠিক হয়নি। আমার পুরো টাকা-ই পানিতে গেছে।’’

এসব নিম্নমাণের কপি মেমোরি বিক্রির জন্য পথ বিক্রেতারা সাউন্ড বক্সে রেকর্ড বাজিয়ে প্রচার করছেন। রেকর্ডে বলা হচ্ছে, সীমিত সময়ের জন্য মেমোরি মেলা। ৫০০ টাকার মেমোরি দেয়া হচ্ছে ৩০০ টাকায় আর ৩০০ টাকার মেমোরি ২০০ টাকায়। এ সুযোগ সিমিত সময়ের জন্য।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, মেমোরিতে যে স্টিকার লাগানো আছে- তার কোন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নেই। আবার অনেক মেমোরিতে কোনো স্টিকারও নেই।

গুলিস্তান হল মার্কেটের সামনে মেমোরি বিক্রেতা আল-আমিন স্বীকার করলেন- এসব মেমোরি অরিজিনাল ব্রান্ডের মোবাইলে চলে না। আমরা তো বিশ-ত্রিশ টাকা লাভের জন্য বিক্রয় করি। কপি মেমোরি কিনা সেটা তো আমি জানি না। আমি এক সাপ্তাহ ধরে এখানে বিক্রয় করছি।

গুলিস্তানের ও এক ভ্রাম্যমাণ পথ বিক্রেতা আওলাদ বলেন, ‘‘এ মেমোরির কারণে অনেক সময় মোবাইল হ্যাঙ্গ করে। দু-একটা ভালো থাকতে পারে। লটারির মতো, কার ভাগ্যে ভালোটা পড়ে কে জানে!’’

গুলিস্তান থেকে মেমেরি কিনে মোবাইলের ফাইল নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানালেন সোহেল। তিনি জানান, ‘‘গুলিস্তান থেকে মেমোরি কিনার সময় দেখি ভালো-ই, ৩২ জিবি দেখাচ্ছে। তখন মেমোরিতে ফাইল স্টোর করি। কিন্তু ২৬টি ছবি তোলার পর দেখি আমার কোন ফাইল-ই দেখাচ্ছে না। লেখা দেখাচ্ছে- ‘নো থিমবল’। তখন মনে হলো আমার মোবাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মেমোরিতে সমস্যা বুঝতে পেরে মেমোরিটি ফেলে দিয়েছি।’’

এ বিষয়ে তাজ এন তানভির শপিং কমপ্লেক্স’র স্বর্ণালী টেলিকমের মোবাইল ও মেমরি বিক্রেতা শহিদ বলেন, ‘‘রাস্তা-ঘাটে মেমোরি বিক্রির কারণে মার্কেটে মেমোরি বিক্রি কমে গেছে। অনেকে আমাদের দাম শুনে চলে যান। কাস্টমাররা বলেন, বাইরে কম দামে মেমোরি বিক্রয় হয়। আপনাদের দাম বেশি কেন? অরিজিনাল ৩২ জিবি মেমোরির দাম ৯৫০ টাকা, ১৬ জিবি মেমোরির দাম ৫২০ টাকা। এ মেমেরিতে একটি সফওটার দেয়া থাকে, কেনার সময় দেখানো হয় ৩২ জিবি, আসলে পরে দেখা যায়- সেখানে মাত্র ১২০ এমবি (মেগাবাইট) আছে। এটা বড় প্রতারণা। গ্রাহক ঠকানো হচ্ছে।’’

তিনি আরো জানান, ‘‘মেমোরিতে এক ধরনের স্টিকার লাগানো থাকে। আমদানিকারকদের স্টিকার থাকে। সেটা দেখলে চেনা যাবে। তবে মোহনা ও কালাম লেখা মেমোরিটা ভালো।’’

একই মার্কেটের এস আর টেলিকমের প্রোপাইটার লোকমান হাকিম জানান, ‘‘কপি মেমোরিতে গান, ছবিসহ বিভিন্ন ফাইল লোড করতে গেলেই সমস্যা দেখা দেয়। কিছুই লোড হয় না।’’

মোহনা টেলিকমের মেমোরি বিক্রেতা মিজান জানান, ‘‘এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরেুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এ জাতীয় মেমোরি প্রথমে শো করলেও, পরে আর কাজ করে না।’’

আর্কাইভ