মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ৬:০১ am

পরিবহনসেবা উবার্‌।।কেন দিশেহার সিএনজি ড্রাইবার? ধর্মঘট চলুক অনন্তকাল!!!

অনলাইন ডেস্ক/অ্যাপভিত্তিক গাড়িসেবা উবার আর পাঠাও বন্ধ না হলে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন সিএনজি মালিকরা। কিন্তু এই হুমকি জনমনে নেই কোন আতঙ্ক। উল্টো কেউ কেউ ফেসবুকে লিখেছেন এই ধর্মঘট অনন্তকাল চলুক। আর মানুষের মনে এই সস্তি এনে দিয়েছে পাঠাও আর উবার। এখন আর ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি করতে চায় না মানুষ। এরই প্রমাণ মিললো সেদিন। দুই নারী গাবতলী যাবেন। ধানমন্ডি ১৫ নম্বরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা খুঁজতে আসামাত্রই তিনজন চালক সামনে এসে দাঁড়ালেন। ২৫০ টাকার ভাড়া চেয়ে পরে ১৮০ টাকায় গেলেন একজন চালক। কিন্তু প্রথমে কেউ রাজি না হলেও তিনজনই শেষে এই ভাড়ায় রাজি হন! চালক জসিম উদ্দিনের ভাষায়, ‘উপায় নাই। আমাগো ডিমান্ড কইমা গেছে।’

সিএনজিচালিত অটোরিকশার কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে ‘ডিমান্ড কমার’ সত্যতা পাওয়া গেল। আলী আসগর নামের এক চালক বলেন, ‘আগে দিনে কমপক্ষে সাত-আটটা ট্রিপ মারতাম। এখন চার-পাঁচটার বেশি পাই না।’ কারণ হিসেবে অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবা উবার ও পাঠাওকে দায়ী করলেন তিনি। কিন্তু নিজেদের বিরুদ্ধে বেশি ভাড়া, যেতে না চাওয়া এবং মিটারে না চলাসহ বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে এই চালক বলেন, ভাড়া বেশি নেন না। রাস্তার যানজটের কারণে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয় বলে ভাড়া ‘কিছু বেশি’ হয়। ওই চালক বললেন, এখন বেশি ভাড়া নেন না। আরও জানালেন, যাত্রী না চাইলে ‘২০ টাকা বাড়িয়ে’ দেওয়ার দাবিও করেন না।

আরেক চালক মো. আব্বাস বলেন, তাঁদের অবস্থা এখন খুব খারাপ। দিনে আধা বেলা চালালে মালিককে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা জমা দিতে হয়। আরা সারা দিনের জন্য হলে ৯০০ বা ১০০০ টাকা। কিন্তু দিনে জমার টাকা ওঠাতেই এখন হিমশিম খেতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, উবারের গাড়ি চলার আইনগত অনুমতি না থাকলেও সরকার কিছু বলছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি অ্যাপভিত্তিক সেবা চালাতে হয়, তাহলে সব সিএনজিচালিত অটোরিকশা যেন তুলে নেয়।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ১৫ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন থেকে আট দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এর মধ্যে অ্যাপনির্ভর সেবা বন্ধের দাবিও আছে। ২৭ নভেম্বর থেকে ৪৮ ঘণ্টা ধর্মঘট পালন করবেন তাঁরা। এরপরেও দাবি না মানা হলে ১৫ জানুয়ারি থেকে লাগাতার ধর্মঘটের কর্মসূচি নেবে। তবে ধর্মঘটের ব্যাপারে চালকদের কোনো ধারণা নেই। অনেকেই এ ব্যাপারে জানেন না। চালকেরা বলছেন, মালিক গাড়ি না নামাতে দিলে তাঁদের কিছু করার নেই। ধর্মঘট ও যাত্রী দিনে দিনে কমে যাওয়ায় মালিকের চেয়ে তাঁরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ধর্মঘটের সংবাদে রাজধানীবাসীকে বিচলিত মনে হলো না। তাঁদের হাতে এখন অনেক সুযোগ। হাতের স্মার্টফোন চাপলেই হাজির হবে ভাড়ায় চালিত ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরবাইক। ভাড়া নিয়ে দেনদরবার নেই। আরামদায়কও বটে। অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবা উবার ও পাঠাও এরই মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।

সুমন কায়সারকে ব্যবসার কাজে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। আগে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছাড়া উপায় ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে গণপরিবহন-ব্যবস্থা যত খারাপ, তা আর কোনো দেশে আছে কি না জানি না। সিএনজিওয়ালারা একেকজন নবাবজাদা। যদি বুঝতে পারে যে যাত্রী বিপদে পড়েছেন, তাহলে এদের আসল চেহারা বের হয়।’ সুমন এখন পাঠাওয়ের মোটরবাইক ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ঝামেলা নেই। ভাড়া নিয়ে বচসায় যেতে হয় না। দ্রুতও যাতায়াত করা যায়। ধানমন্ডি নিবাসী আশফিয়া আলমও দূরের পথ হলে উবার ব্যবহার করেন। ধর্মঘটের কথা শুনে বলেন, ‘তারা বেশি করে ধর্মঘট করুক। যাত্রীদের কোনো অসুবিধা হবে না।’

ধর্মঘটকে ‘সমর্থন’ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে নানা রকম প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধর্মঘট যেন সারা জীবন থাকে, সে প্রার্থনাও অনেকের। ‘ট্রাফিক অ্যালার্ট’ নামের ফেসবুক গ্রুপে একজন লিখেছেন ‘লেটস ক্রিয়েট সিএনজি আউট’। ‘পাঠাও ইউজারস অব বাংলাদেশ’ গ্রুপে একজন লিখেছেন, ‘সিএনজি অটোরিকশার ধর্মঘট খুবই যৌক্তিক। আমরা চাই এই ধর্মঘট অনন্তকাল চলুক।’

আর্কাইভ