মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ৬:১৬ am

ফেসবুক ছেয়ে গেছে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের দেয়া শোকের স্ট্যাটাসে

অনলাইন ডেস্ক/‘মৃত্যুর ডাক যখন আসে তখন কেউ-ই তা ফেরাতে পারে না। বার বার সেটাই প্রমাণিত হলো। এটাই চিরন্তন সত্য। তবে, আনিস ভাইয়ের এমন প্রলম্বিত মৃত্যু সবার হৃদয়ের গভীরে যে দাগ কেটেছে তা কখনোই ভুলবার না। বিদায় আনিস ভাই, বিদায়।’ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মোস্তফা ফিরোজ এ স্ট্যাটাস দেন। শুধু তিনি একাই নন, ডিএনসিসির মেয়রের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের দেয়া শোকের স্ট্যাটাস গোটা ফেসবুকজুড়ে।

নাতির জন্ম উপলক্ষে গত ২৯ জুলাই সপরিবারে লন্ডন যান আনিসুল হক ও রুবানা। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। মস্তিস্কের রক্তনালীতে প্রদাহজনিত সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে আক্রান্ত হয়ে গত চার মাস যাবত লন্ডনের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থেকে বৃহ্স্পতিবার রাতে তিনি মারা যান।

মাসুদুল হাসান রনি নামের একজন লিখেছেন, ‘আনিস ভাই , এত কী তাড়া ছিল এক্ষুণি সব ছেড়ে যেতে হবে? গত ৩ বছরে খুব একটা দেখা না পেলেও ২/৩ মাস পর যেকোনো কারণে আপনার ব্যক্তিগত নম্বর থেকে মেসেজ পেতাম। আমি কিছু লিখলে আপনি সেটার উওরে যা লিখতেন তাতো আমার সারাজীবনের স্মৃতি হয়ে গেল।

যেখানে থাকুন আনিস ভাই ভালো থাকুন। আমার কাছে আপনি মোহাম্মদী গ্রুপের কর্ণধার, নাগরিক টিভির চেয়ারম্যান, উত্তরের মেয়র বা বিজেএমইএ কিংবা এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয় বিটিভির ‘অন্তরালে’র আনিস ভাই হয়ে থাকবেন বাকি জীবনেও। আর আপনার মানবিক গুণাবলির কথা তারাই জানেন যারা আপনার বিশাল হৃদয়ের সংস্পর্শ পেয়েছে। আবারো বলি যেখানে থাকুন ভালো থাকবেন আনিস ভাই।’

আব্দুর রাজ্জাক সরকার নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, কংক্রিটের এই শহরকে সবুজ করতে, একজন আনিসুল হকের খুব প্রয়োজন ছিল। এভাবে চলে যাওয়াটা কষ্টদায়ক। ভালো থাকবেন প্রিয় নগরপিতা।....

ওয়াহিদুর রহমান নামের একজন লিখেছেন, নক্ষত্র পতনে আমরা শোকাহত। আমাদের স্বপ্ন দেখিয়ে হারিয়ে গেলেন একজন ভালো মানুষ। ওপারে ভালো থাকুন প্রিয় আনিসুল হক।

মির্জা সান্টু নামে একজন লিখেছেন, চলে গেলেন না ফেরার দেশে মেয়র আনিসুল হক...মহান আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসী করুক।

নান্দনিক ঢাকার স্বপ্নদ্রষ্টা, যিনি বলেছিলেন- মানুষ মৃত্যুর আগেও স্বপ্ন দেখে, যে মানুষটি কোটি মানুষকে উন্নত নগরীর স্বপ্ন দেখিয়েছেন যা বাস্তবায়ন এর জন্য পরিশ্রম করেছেন নিরলস সেই মানুষটি আজ স্বপ্নের দেশে পাড়ি দিয়েছেন......

আপনার সংগ্রামী জীবন, অদম্য তারুণ্য আর স্বপ্নের চেয়েও সফলতা লক্ষ তরুণের আইডল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভালো থাকবেন।

নাহার এস কামরুন লিখেছেন, ‘আর কিছু লিখব না, এফবিতে লিখে কী হবে! আনিসুল হক অন্যরকম কেউ ছিলেন, এইটুকুই মনে রাখব।

আর বি সাগর পারভেজ লিখেছেন, অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়, এভাবে চলে গেলেন আনিসুল হক। বুকের এক পাশ ব্যাথা করছে। ভাল মানুষ খুব তাড়াতাড়ি বিদায় নেয় এই দুনিয়া থেকে। আল্লাহ উনাকে জান্নাতের সবচেয়ে উচু স্থানে জায়গা দান করুক আমিন

সদ্যপ্রয়াত উত্তর নগরপিতাকে নিয়ে এমনই বহু স্ট্যাটাসে ভরে গেছে ফেসবুক।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবার যুক্তরাজ্য যান মেয়র আনিসুল হক। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৩ আগস্ট তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। এরপর তাকে দীর্ঘদিন আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে মেয়রের শারীরিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তার কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে নেয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার ডিএনসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে আবার আইসিইউতে নেয়া হয়। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান মেয়র আনিসুল হক।

আনিসুল হক ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর নানাবাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায়। এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি, ব্যবসায়ী ও একসময়কার টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আনিসুল হক ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক, তাদের তিন সন্তান রয়েছে।

আর্কাইভ