মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ || সময়- ৬:১২ am

মেয়রের মৃত্যুতে ঢাকায় ‘মিনি জাতীয় নির্বাচন’

অনলাইন ডেস্ক/১৯৯৪ সাল। বিএনপি ক্ষমতায়। এ সময় অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচন। প্রত্যক্ষ ভোটের এই নির্বাচনে জয়ী হলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ হানিফ। এই নির্বাচনই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগের আন্দোলনকে দিলো নতুন মাত্রা। ঢাকায় ‘জনতার মঞ্চ’ বেগম জিয়ার পতনকে ত্বরান্বিত করল।ৱ

এখন সেই অখন্ড সিটি করপোরেশন আর নেই। কিন্তু ঢাকা উত্তরের মেয়র পদ শূন্য হবার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হলো। এই নির্বাচন দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হলো। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এখন উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হবার কথা।

সিটি করপোরেশনের আইনের ১৬ ধারায় ‘আকস্মিক পদ শূন্য হওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে ‘সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হইবার একশত আশি দিন পূর্বে মেয়র বা কাউন্সিলরের পদশূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে ইহা পূরণ করিতে হইবে এবং যিনি উক্ত পদে নির্বাচিত হইবেন তিনি সিটি কর্পোরেশনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।’ অর্থাৎ প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের নেতৃত্বে বর্তমান উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ মাত্র আড়াই বছর পার হয়েছে। ২০১৫ সালের মে মাসে বর্তমান সিটি কর্পোরশনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন আনিসুল হক। এখন আইন অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে মেয়র নির্বাচন দিতে হবে।

গুলশান, বনানী, বারিধারা সহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এই নির্বাচনী এলাকাকে বলা হয় নীতি নির্ধারণী ভোটার। এরাই সমাজের থিংক ট্যাংক। এরা যা ভাবেন, তাই প্রতিধ্বনিত হয় সারা দেশে।

এখানে ভোট পর্যালোচনার করলে দেখা যায়, ৫০ ভাগের বেশি সুইং ভোটার এই এলাকায়। প্রত্যেক নির্বাচনেই এরা মত বদল করেছে। আর তাদের এই মতবদল পুরো দেশের নির্বাচনের মানচিত্র পাল্টে দিয়েছে।

ঢাকা উত্তরের সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে। ৯১ সালের নির্বাচনে সব আসন জিতেছিল বিএনপি। ৯৬ এর ফলাফল হয় পুরো উল্টো। সবগুলো আসন আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। ২০০১ এ আবার বিএনপি সব আসতে জেতে, ২০০৮ এ আওয়ামী লীগ জেতে সব কটিতে।

মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো এই এলাকার আসনগুলো একবার বিএনপি, অন্যবার আওয়ামী লীগ পেয়েছে। যখন যারা জিতেছে তারাই সরকার গঠন করেছে। তাই, এই এলাকাটিতে জনগণের মনোভাব কি তার ওপর নির্ভর করে পুরো দেশের জনমত।

নির্বাচনের এক বছর আগে তাই ঢাকা উত্তরের নির্বাচনকে মিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হিসেবেই দেখছে প্রধান দুই দল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অপ্রত্যাশিত এই নির্বাচন দুই দলের জন্যই অগ্নি পরীক্ষা। এই মেয়র নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ জয়ী হয়, সেক্ষেত্রে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়বে। নির্বাচনের আগে এই ফলাফল তাদের উজ্জীবিত করবে। একই ঘটনা ঘটবে বিএনপি জয়ী হলেও।

সবার প্রিয় আনিসুল হকের প্রয়াণ শোক কেটে যাবে চটজলদি। দুই দলই এই সিটি করপোরেশন জয়ের হিসেব-নিকেশ করবে। ২০১৫ র নির্বাচনে উত্তরে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুল আওয়াল মিন্টো। সঙ্গে তাঁর ছেলেও মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন। মিন্টোর মনোনয়ন বাতিল হয় রহস্যময় কারণে। বিএনপির অনেকেই মনে করেন, ইচ্ছা করেই মিন্টো তাঁর মনোনয়ন পত্রে ভুল করেছিলেন। পরে মিন্টোর ছেলে তাবিথ আওয়াল বিএনপির প্রার্থী হয়।

নির্বাচনের শুরুতেই তাবিথ কারচুপির অজুহাত দেখিয়ে সরে দাঁড়ায় নির্বাচন থেকে। কিন্তু ওই নির্বাচনে তাবিথ সরে না দাঁড়ালেও আনিসুল হকই বিজয়ী হতেন বলে রাজনৈতিক পর্যাবেক্ষকরা মনে করেন। নির্বাচনে তিনি এক ভিন্ন মাত্র এনেছিলেন। দল-মতের বাইরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল।

ওই নির্বাচনে দুই প্রার্থীর কেউই দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেননি। এবার দুই দলই দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে। এই নির্বাচন তাই জাতীয় নির্বাচনের মহড়াই হবে। প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে ভোট যুদ্ধের। রংপুর, গাজীপুর ছাপিয়ে রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দু হবে ঢাকা।

আর্কাইভ